জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন পালন করেছে। জাকসু নির্বাচনের প্রথম দিনে মোট ১৩২ জন শিক্ষার্থী তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এই সংখ্যাটি দেখায় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষার্থী রাজনীতিতে কতটা আগ্রহী।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিস্তারিত তথ্য
সোমবার ১৮ আগস্ট বিকেল ৫টায় নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশেদুল আলম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাকসু কেন্দ্রীয় সংসদের বিভিন্ন পদের জন্য ৪৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। এই সংখ্যা দেখায় যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পদগুলোর জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
হল সংসদ নির্বাচনেও উৎসাহ
হল সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও চমৎকার সাড়া পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলের মধ্যে ছাত্রদের ১১টি হল এবং নারী শিক্ষার্থীদের ১০টি হল রয়েছে। এই সব হলের নির্বাচনের জন্য মোট ৮৬টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে শুধু কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নয়, হল পর্যায়েও শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী।
নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার গুরুত্ব
প্রক্টর সাহেব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি কোনো প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে সেই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হবে। এই নিয়মটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সমস্ত প্রার্থীদের উচিত এই আচরণবিধি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং তা মেনে চলা।
আজকের অবস্থা এবং আগামীর পরিকল্পনা
প্রথম দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র একজন প্রার্থী তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এটি স্বাভাবিক কারণ অধিকাংশ প্রার্থী সময় নিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার কথা ভাবেন। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমাদানের সময় বাড়ানো হবে কিনা তার সিদ্ধান্ত নেবে।
নির্ধারিত সময়সূচী
বিশ্ববিদ্যালয়ের তফসিল অনুযায়ী ১৮ ও ১৯ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। এর মানে হলো আগামীকাল ১৯ আগস্ট মনোনয়ন সংগ্রহ এবং জমাদানের শেষ দিন। আগ্রহী প্রার্থীদের এই সময়সীমার মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
জাকসু নির্বাচনের গুরুত্ব
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ শুধু একটি ছাত্র সংগঠন নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এই নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নেতাদের নির্বাচন করবেন। প্রথম দিনেই ১৩২ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা নির্বাচনের প্রতি শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের প্রমাণ।
শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
যারা এখনো মনোনয়নপত্র নেননি তাদের জন্য আগামীকাল শেষ সুযোগ। তবে দায়িত্বশীল প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থী রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার অর্থ হলো বিশ্ববিদ্যালয় ও সহপাঠীদের সেবা করার অঙ্গীকার নেওয়া।
জাকসু নির্বাচনের এই শুরুটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ১৩২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ প্রমাণ করে যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস রাখেন এবং সক্রিয় অংশগ্রহণে আগ্রহী।
