প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল এখনই প্রকাশ হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফল প্রকাশের একটি লক্ষ্য থাকলেও খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রস্তুতের কাজ শেষ না হওয়ায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। তবে কর্তৃপক্ষের চেষ্টা রয়েছে ঈদুল আজহার আগেই ফল প্রকাশ করার। এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ফল প্রস্তুতের পুরো প্রক্রিয়াটি সময় নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু খাতা মূল্যায়ন নয়, ফল সংকলন ও যাচাইয়ের কাজও এখনো চলমান। সে কারণে ফল প্রকাশের বিষয়ে নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এবং বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের শিক্ষার্থী প্রায় ৯০ হাজার। বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর কারণে ফল প্রক্রিয়াকরণে স্বাভাবিকভাবেই বেশি সময় লাগছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে ৬৬ হাজার বৃত্তি, আর বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬ হাজার ৫০০। বৃত্তি দেওয়া হবে দুই ক্যাটাগরিতে—ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি। ট্যালেন্টপুলে থাকবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ বৃত্তিতে থাকবে ৪৯ হাজার ৫০০ জন।
বর্তমান হার অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩০০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা পাবে মাসে ২২৫ টাকা ও বছরে এককালীন ২২৫ টাকা। পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর পরবর্তী দুই বছর এই আর্থিক সুবিধা চালু থাকবে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইনে রোল নম্বর দিয়ে নিজের ফল দেখতে পারবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস ফলাফল পোর্টালে “প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল” নামে আলাদা অপশন রয়েছে, যেখানে “প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫” নির্বাচন করে রোল নম্বর দিয়ে ফল দেখা যায়। সেখানে হেল্পলাইন নম্বর হিসেবেও +8801332510218 এবং +8801332510217 দেওয়া আছে।
এদিকে প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ ঘিরে আইনি প্রশ্নও উঠেছে। একটি আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, নতুন নীতিমালায় সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বণ্টন এবং পৃথক প্রতিযোগিতার কাঠামো বৈষম্যের জন্ম দিতে পারে। যদিও এ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি, বিষয়টি ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনাকে আরও বাড়িয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃত্তির টাকার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাবও করেছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে পরবর্তী সময়ের পরীক্ষার্থীরা বাড়তি হারে বৃত্তির অর্থ পেতে পারে। তবে চলতি ফলাফলের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কখন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে, সে ঘোষণা।
সব মিলিয়ে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এখন মূল বার্তা হলো—প্রাথমিক বৃত্তির ফলের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি, তবে অধিদপ্তর ঈদুল আজহার আগেই ফল প্রকাশের চেষ্টা করছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উচিত অফিসিয়াল ফলাফল পোর্টাল ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে চোখ রাখা। ফল প্রকাশ হলেই রোল নম্বর দিয়ে অনলাইনে তা দেখা যাবে।
