বিশ্বের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ নিয়ে হাজির হয়েছে হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম (HKPFS)। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৪০০টি সম্পূর্ণ অর্থায়িত পিএইচডি ফেলোশিপ প্রদান করা হবে। এশিয়ার অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ এই ডক্টরাল প্রোগ্রামটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হংকং
হংকং বর্তমানে বিশ্বমানের শিক্ষা ও অত্যাধুনিক গবেষণার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের মেধাবী, সৃজনশীল ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন তরুণ গবেষকদের আকর্ষণ করা, যেখানে জাতি, ধর্ম, জাতিগত পরিচয় বা ভৌগলিক অবস্থান কোনো বাধা নয়।
এই ফেলোশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শারীরতত্ত্ব, চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, সমাজবিজ্ঞান, মানবিক বিদ্যা, ব্যবসায় শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করার সুযোগ পাবেন। হংকংয়ের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করা যাবে।
হংকংয়ের আটটি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ
হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হংকংয়ের আটটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে ভর্তি হতে পারবেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- হংকং বিশ্ববিদ্যালয়, হংকংয়ের চায়নিজ বিশ্ববিদ্যালয়, হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি বিশ্ববিদ্যালয়, হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়, হংকং ব্যাপটিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয় এবং লিংনান বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কঠোর একাডেমিক পরিবেশের পাশাপাশি বহুমুখী সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা করার পূর্ণ সুযোগ পাবেন।
আকর্ষণীয় আর্থিক সুবিধা ও ভাতা
হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম এর অধীনে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আকর্ষণীয় আর্থিক সুবিধা পাবেন। প্রতি বছর ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮০০ হংকং ডলার (প্রায় ৪৩ হাজার ৬৯০ মার্কিন ডলার) বার্ষিক ভাতা প্রদান করা হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩ লাখ ১৯ হাজার টাকার সমান।
এই আর্থিক সহায়তা সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য প্রদান করা হবে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রতি বছর অতিরিক্ত ১৪ হাজার ২০০ হংকং ডলার (প্রায় ১ হাজার ৮২০ ডলার) ভ্রমণ ভাতা থাকবে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর গবেষণা তিন বছরের বেশি সময় লাগে, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করবে।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী
হংকং পিএইচডি ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই নতুন এবং পূর্ণকালীন পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হতে হবে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থী এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীর অবশ্যই ভালো একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার সম্ভাবনা, নেতৃত্বগুণ ও শক্তিশালী যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।
ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে, সাধারণত পূর্ববর্তী শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি ছিল এমন প্রমাণ প্রয়োজন। এ ছাড়াও নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীদের গবেষণা প্রস্তাবনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
সহজ আবেদন প্রক্রিয়া: দুটি সহজ ধাপ
হংকং পিএইচডি ফেলোশিপের আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং দুটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে প্রাথমিক আবেদন করতে হবে। ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদনকারীদের হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিমের ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এই প্রাথমিক আবেদন সম্পন্ন হলে একটি রেফারেন্স নম্বর প্রদান করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে প্রাপ্ত রেফারেন্স নম্বর ব্যবহার করে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ দুটি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। যদি কোনো কারণে রেফারেন্স নম্বর প্রদান না করা হয়, তাহলে আবেদনটি সাধারণ ভর্তি আবেদন হিসেবে গণ্য হবে, ফেলোশিপের জন্য নয়।
আবেদনের শেষ সময়সীমা ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ ২০২৬-২৭ এর জন্য আবেদনের চূড়ান্ত সময়সীমা হলো ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর রাত ১১:৫৯ (হংকং স্থানীয় সময় অনুযায়ী)। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় একই সময়সীমা অনুসরণ করবে। তাই আগ্রহী আবেদনকারীদের যথাসময়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে এবং সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে।
এই বিশ্বমানের ফেলোশিপ প্রোগ্রামটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী প্রার্থীরা এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন। হংকংয়ের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণা পরিবেশে অধ্যয়নের এই সুযোগ মিস করা উচিত নয়।
